কলকাতা, ২৮ অক্টোবরঃ নভেম্বরের শেষে নয়, কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট হতে পারে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে। নির্বাচনী প্রস্তুতির একাধিক কাজ এখনও বাকি থাকায় আগামী ২০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের একাংশ। যদিও আদালতের হস্তক্ষেপে এই সময়সূচিতে বদল আসতে পারে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি।
মঙ্গলবার কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর পুরভোটের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের জেরে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং প্রায় ১০০টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করানো কার্যত কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের একাংশ।
এর আগে ২৮ অথবা ২৯ নভেম্বর কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোটের সম্ভাবনা ধরে প্রস্তুতি শুরুর সুপারিশ করেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সেই মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্বের জেরে সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে যেতে পারে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে কলকাতা ও হাওড়ার পাশাপাশি বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং পুরসভাতেও ভোট হতে পারে বলে খবর।
মঙ্গলবার আলিপুরের ট্রেজারি বিল্ডিংয়ে খসড়া ভোটার তালিকা ও ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের পুনর্বিন্যাস নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত হয়েছে, বুথ পুনর্বিন্যাস নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে আপত্তি জানাতে হবে। ৪ ও ৫ নভেম্বরের মধ্যে সেই আপত্তির শুনানি হতে পারে। বরো-পিছু এক জন করে মিউনিসিপ্যাল রিটার্নিং অফিসার (এমআরও) নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র পরিদর্শন করা হবে।
সব ঠিক থাকলে ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তার পরেই কলকাতার পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ভোটগ্রহণের জন্য অন্তত ২৫টি কার্যদিবসের সময় প্রয়োজন। ছটপুজো-সহ একাধিক ছুটি থাকায় ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে দেখছেন আধিকারিকদের একাংশ।
তবে ভোটার তালিকা নিয়েও আপত্তি রয়েছে বিরোধীদের। কলকাতায় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ভোটারের নাম ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বলে দাবি উঠেছে। হাওড়াতেও ৩৯ হাজার নামের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল, কংগ্রেস ও বাম প্রতিনিধিদের অভিযোগ, তড়িঘড়ি ভোট করাতে গিয়ে বুথ পুনর্বিন্যাস ও ভোটার তালিকা তৈরিতে অনিয়ম হচ্ছে। বিজেপির বক্তব্য, আপত্তি জানানোর সুযোগ দিয়েছে কমিশন এবং দল যে কোনও সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। নভেম্বরের সম্ভাব্য সূচি থেকে ডিসেম্বরের অপেক্ষা পুরভোটের দিনক্ষণ নিয়ে এখন নজর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপে।





