শিলিগুড়ি, ২৭ অক্টোবরঃ উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র শিলিগুড়ি জংশন। প্রতিদিন এই স্টেশন ব্যবহার করেন বহু যাত্রী। তাঁদের যাত্রা আরও স্বচ্ছন্দ করতে স্টেশনের পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। রেলের লক্ষ্য, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে শিলিগুড়ি জংশনের আধুনিকীকরণ। মঙ্গলবার স্টেশন পরিদর্শন করে এমনই আশ্বাস দিলেন কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম কিরেন্দ্র নারাহ।
অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় নতুন চেহারায় সাজছে শিলিগুড়ি জংশন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডিআরএম জানান, উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। দীর্ঘদিন স্টেশনের বাইরে থাকা বুকিং কাউন্টার ইতিমধ্যেই নতুন ভবনের ভিতরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাকি পরিকাঠামোগত কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
আধুনিকীকরণের পর যাত্রীদের সুবিধার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। স্টেশনে লিফট-সহ একাধিক আধুনিক পরিষেবা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষত প্রবীণ যাত্রী, শিশু এবং চলাফেরায় সমস্যায় থাকা মানুষের কাছে এই ধরনের পরিষেবা যাতায়াতকে আরও সহজ করে তুলতে পারে। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই যে স্টেশনের সামগ্রিক চেহারা ও যাত্রী পরিষেবায় পরিবর্তন আসবে, সেই আশাতেই তাকিয়ে রেলযাত্রীরা।
শুধু শিলিগুড়ি জংশন নয়, উত্তরবঙ্গের আরেক গুরুত্বপূর্ণ রেলকেন্দ্র নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) স্টেশনেও চলছে উন্নয়নের কাজ। ডিআরএম জানিয়েছেন, এনজেপির আধুনিকীকরণ ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ফলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনেই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সুফল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন যাত্রীরা।
এ দিকে, পুজোর কারণে সাময়িক ভাবে বন্ধ ছিল শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের উন্নয়নমূলক কাজ। এ বার পরিদর্শনের পরে দ্রুত সেই কাজ ফের শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিআরএম।
শিলিগুড়িতে প্রস্তাবিত ডবল লাইন রেল প্রকল্প নিয়েও আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ চলছে। ইতিমধ্যেই ফর্ম এ এবং ফর্ম বি জমা পড়েছে। পুজোর কারণে প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হলেও এ বার তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি জংশন, এনজেপি ও টাউন স্টেশনের আধুনিকীকরণের পাশাপাশি ডবল লাইন প্রকল্প ঘিরেও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা মেনে কাজ এগোলে উত্তরবঙ্গের রেল পরিকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সেই উন্নয়নের বাস্তব সুফল কতটা দ্রুত যাত্রীদের কাছে পৌঁছয়, এখন সেটাই দেখার।











