কলকাতা, ২৭ অক্টোবরঃ পুরভোটের আগে দলবদলের সম্ভাবনা ঘিরে বিজেপির অন্দরে বাড়ছে মতপার্থক্যের চর্চা। তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতাদের দলে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হচ্ছে ভিন্ন অবস্থান। কেউ নতুন করে তৃণমূলের নেতাদের প্রবেশে আপত্তি জানাচ্ছেন, কেউ আবার পুরসভা পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করছেন। এই আবহে মঙ্গলবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, রাজনীতিতে আবেগের জায়গা নেই। কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে আসা গেলে তৃণমূল থেকেও আসতে বাধা কোথায়?
দিলীপের কথায়, “রাজনীতিতে আবেগের কোনও জায়গা নেই। কংগ্রেস থেকে আসতে পারলে তৃণমূল থেকেও আসতে পারেন।” তবে দলবদল করলেই যে বিজেপিতে জায়গা নিশ্চিত, এমন বার্তা দেননি তিনি। বরং তাঁর বক্তব্য, যাঁরা আসতে চাইছেন, তাঁরা বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো ও কার্যপদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলেরই।
দিলীপের এই মন্তব্যের তাৎপর্য রয়েছে পুরভোটের প্রেক্ষাপটে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের জল্পনা, তৃণমূলের একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তাঁদের কাউকে কাউকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে ঘিরেই বিজেপির নেতৃত্বের মধ্যে মতের ফারাক সামনে এসেছে।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলবদলুদের প্রবেশের প্রশ্নে ‘নো এন্ট্রি’ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যেও। অন্য দিকে, শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নেতাদের একাংশের যুক্তি, পুরসভা পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুরসভার কাজ সম্পর্কে যাঁদের গভীর ধারণা রয়েছে, তাঁদের দলে নেওয়া এবং প্রার্থী করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে দিলীপের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে। যদিও তিনি সরাসরি কোনও নেতার নাম উল্লেখ করেননি, তাঁর বক্তব্যে দলবদলের প্রশ্নে দরজা পুরোপুরি বন্ধ না রাখার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার সঙ্গে নতুনদের মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও যে গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট করেছেন তিনি।
পুরভোটের আগে বিজেপি শেষ পর্যন্ত কাদের দলে জায়গা দেয়, আর প্রার্থী বাছাইয়ে কোন যুক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। দলবদলুদের নিয়ে বিতর্কের নিষ্পত্তি হবে কি না, তার উত্তর দেবে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই।





