নয়াদিল্লী, ২৭ অক্টোবরঃ এসআইআর, ফর্ম ১৬-তে পরিবর্তন এবং একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় মঙ্গলবার শুনানি শুরু হল সুপ্রিম কোর্টে। আপাতত এই পর্বে কিছুটা স্বস্তি পেলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত। অন্য দিকে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে ইতিমধ্যেই হলফনামা জমা দিয়েছে কমিশন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কার্যপদ্ধতি এবং এসআইআর-সংক্রান্ত ফর্মে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক পিটিশন দায়ের হয়েছিল। অভিযোগগুলির মধ্যে ছিল, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ পরামর্শ ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার সেই মামলাগুলি একত্রিত করে শুনানি শুরু হয়। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে নোটিস দিয়েছে আদালত।
এ দিকে, একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগের জবাবে হলফনামা জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে কমিশনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলি মূলত একটি সংবাদ প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে তোলা হয়েছে। তবে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে আধিকারিকদের মতামত, পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা হয় বলে দাবি কমিশনের।
হলফনামায় কমিশন আরও জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনারদের মতামতও বিবেচনায় থাকে। অর্থাৎ, কোনও সিদ্ধান্তকে একতরফা বলে চিহ্নিত করার অভিযোগ মানতে নারাজ কমিশন। তাদের বক্তব্য, সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও মতামত বিবেচনার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
তবে কমিশনের এই বক্তব্যই শেষ কথা নয়। মামলাগুলিতে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী শুনানিতে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর। বিশেষত এসআইআর-সংক্রান্ত ফর্মে পরিবর্তন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলি উঠেছে, সেগুলির আইনি নিষ্পত্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, মঙ্গলবারের শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য সামনে এলেও মামলাগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। কমিশনের হলফনামা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য খতিয়ে দেখে সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী পদক্ষেপ করবে। তাই আপাতত স্বস্তি মিললেও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনি পরিণতি নির্ভর করছে আগামী শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্তের উপর।





