নয়াদিল্লী, ২ অক্টোবরঃ বিপদ কখনও বলে আসে না। আর সেই বিপদের মুখে দাঁড়িয়েই কখনও কখনও প্রকাশ পায় মানুষের প্রকৃত সাহস। মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে গিয়েছেন ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। তাঁর সেই সাহসিকতার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিদেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিতের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি জানালেন, তাঁর কাজে গর্বিত গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রীর মুখে এমন প্রশংসা শুনে আবেগে ভেসে গেলেন ৩৯ বছরের পাইলট।
বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনার ভয়াবহতা যে কতটা ছিল, স্মিতের কথাতেই তা স্পষ্ট। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কী ভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। মোদি বলেন, “আপনার অসীম সাহসের কাজে দেশ গর্বিত।” সেই সঙ্গে আশ্বাস দেন, প্রয়োজন হলে যে কোনও সময়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন স্মিত।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পাইলট। স্মিত বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি যে আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারব।” জবাবে মোদি বলেন, “আমার কাছে আপনি আবেগপ্রবণ হবেন না তো কোথায় হবেন!”
এর পর নিজের লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে স্মিত জানান, ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিমান চালাচ্ছেন তিনি। গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বিমানের ভিতরে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা ছিল। তাই পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, হাল ছাড়তে চাননি। তাঁর কথায়, “আমি পড়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু বুঝতে পেরেছিলাম, উঠে দাঁড়াতে না পারলে মারা যাব।” ককপিটের দরজা খোলার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দরজা খোলার পর অন্যরা ভিতরে আসেন। তবে গোটা ঘটনায় প্রত্যেকেরই সমান ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন স্মিত।
এই লড়াইয়ের মধ্যেও ভরসা ছিল ঈশ্বরের উপর। স্মিত জানান, বিপদে পড়লে তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করেন। বুধবারের ঘটনার সময়ও সেই প্রার্থনাই করছিলেন। মোদি তাঁকে জানান, তাঁর মা গীতার সঙ্গেও কথা হয়েছে। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ভগবদ্গীতার শিক্ষা ও মূল্যবোধের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করে মোদি বলেন, ভারতীয়রা অন্যের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার বদলে অন্যের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবন বিপন্ন করতেও প্রস্তুত থাকেন। বিপদের মুহূর্তে এক পাইলটের লড়াই তাই শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাহসিকতার কাহিনি নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও বহন করছে।





