নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবরঃ আকাশে তখন ভয়াবহ বিপদ। ককপিটের ভিতর সহ-পাইলটের ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত ক্যাপ্টেন। আচমকা নীচের দিকে নামছে বিমান। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা। সেই মুহূর্তে গুরুতর আহত অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার। ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার পর যাত্রী ও বিমানকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩। বিমানে থাকা ১৭৪ যাত্রীর সকলেই নিরাপদে বেঁচে যান।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘গতকালের ঘটনায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত অসাধারণ ধৈর্য, উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।’’ মোদী জানান, স্মিতের বাবা ভূপেন্দ্রভাই, মা গীতাবেন এবং স্ত্রী সোনালবেনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। দেশবাসীর কাছে তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনার আবেদনও জানান প্রধানমন্ত্রী।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও স্মিতের প্রশংসা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, গুরুতর আহত অবস্থাতেও ভারতীয় পাইলট প্রতিরোধ করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এর ফলে যাত্রী ও বিমানকর্মীরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। নেতানিয়াহুর দাবি, এ ভাবেই ১৭৪ জনের প্রাণ বাঁচে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার। দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি। মাঝ আকাশে ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যায়। অভিযোগ, সহ-পাইলট ছুরি নিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের উপর হামলা করেন। একই সময়ে বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা কমে যায় অল্প সময়ের মধ্যে। পরে অন্য দুই পাইলট ও বিমানকর্মীদের সহায়তায় বিমানটিকে তাবুকে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
ঘটনার পর স্মিতকে তাবুকের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল বলে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
কী কারণে ককপিটে এই হামলা, সহ-পাইলটের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল তা এখনও তদন্তাধীন। প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হামলা বা বিমান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, ঘটনার পূর্ণ উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তবে ভয়াবহ সেই কয়েক মিনিটে স্মিত মচ্ছারের সিদ্ধান্ত এবং প্রতিরোধই যে বড় বিপদ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসার ঝড়।





