কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এবার প্রশ্ন উঠল আপিলের প্রক্রিয়া নিয়েই। পশ্চিমবঙ্গে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা যে ভোটারদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ১৬.১০ লক্ষের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের হয়ে এত বিপুল সংখ্যক আপিল করার অনুমতি দিয়েছিলেন কে? আর সেই আপিল বাস্তবে করেছিলেনই বা কারা? নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই এই প্রশ্ন তুলেছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর তদন্তমূলক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অগস্টে কমিশনের আধিকারিকদের চিঠি দিয়ে সান্ধু জানতে চেয়েছিলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের হয়ে এই আপিলগুলি দায়ের করার অনুমতি কে দিয়েছিলেন এবং সেই অনুমতি কার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল?’’ পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন ছিল, ‘‘নির্বাচন কমিশনের হয়ে আসলে এই আপিলগুলি দায়ের করেছিলেন কে?’’
তাৎপর্য এখানেই। সান্ধুর নথিভুক্ত প্রশ্ন অনুযায়ী, এই আপিল দায়েরের ভিত্তি এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি নিজে, অপর নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক—কেউই অবহিত ছিলেন না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ লক্ষের বেশি আপিল একটি নির্দিষ্ট আধিকারিকের লগইন ব্যবহার করে দায়ের হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি।
ঘটনাটি সামনে এসেছে SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২২.২১ লক্ষ ভোটার নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আপিল করেছেন। অন্য দিকে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তে যাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, তাঁদের ১৬.১০ লক্ষের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আপিলের সংখ্যা ৩৮ লক্ষের বেশি।
SIR-এর ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ নিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের যাচাইয়ের আওতায় আসে। সেই প্রক্রিয়ার পরেই ২৭ লক্ষের বেশি নাম বাদ যায়। পরে বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের শুনানির জন্য অবসরপ্রাপ্ত হাই কোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে ট্রাইব্যুনালও গঠন করা হয়।
এ বার প্রশ্ন উঠেছে উল্টো দিকের আপিল নিয়েই। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন কী ভাবে, কার অনুমতিতে এবং কার নির্দেশে করা হল তার উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের আগে কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।





