কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ ২৮ বছরের রাজনৈতিক পরিচয়ের সামনে আচমকা নতুন নাম, নতুন প্রতীক। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক আপাতত দুই শিবিরের হাতের বাইরে। উপনির্বাচনের মুখে কমিশনের এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পরেই পাল্টা আইনি পথে হাঁটলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার রাতেই কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে তাঁর শিবির।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা-নেতৃত্বাধীন শিবিরের নতুন নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীক ‘ফুটবলার’। অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবিরের নাম ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক ‘খাম’। ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মূল বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান মমতা। নিজের তৈরি দল এবং তার দীর্ঘদিনের নির্বাচনী পরিচয় ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্ন নেই এমন বার্তাই দেন তিনি। কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার কথা জানানোর পর রাতেই সেই পদক্ষেপও করা হয়েছে। মামলায় নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পক্ষ করা হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি এখনও নম্বরপ্রাপ্ত ও নথিভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জরুরি শুনানির জন্য ২১ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিষয়টি উল্লেখ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে এই প্রতীক-নাম বিতর্কের পরবর্তী পর্ব শুরু হওয়ার সম্ভাবনা।
এই সংঘাতের সূত্রপাত ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন থেকে। দুই পক্ষই নিজেদের সংগঠন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের বৈধ দাবিদার বলে কমিশনের কাছে নথি জমা দেয়। কমিশন জানিয়েছে, দুই গোষ্ঠীর দাবির মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সময় প্রয়োজন। কিন্তু সামনে উপনির্বাচন থাকায় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসাবে দু’পক্ষকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
ফলে আপাতত ভোটের ময়দানে জোড়াফুলের জায়গায় ফুটবলার বনাম খাম। কিন্তু আসল লড়াই শুধু ব্যালটের প্রতীকে আটকে নেই। দলের নাম, প্রতীক এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের অধিকার নিয়ে সেই লড়াই এ বার গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে কী হয়, আপাতত নজর সেদিকেই।





