মালদা, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ মণ্ডপ তৈরি হয়ে গিয়েছে। বাইরে নীল-সাদা কাপড়, ভিতরে হলুদ-সাদা। গণেশপুজোর প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। কিন্তু পুজোর মুখে মণ্ডপের কাপড়ের রং নিয়েই শুরু হল বিতর্ক। অভিযোগ, স্থানীয় এক বিজেপি নেতার আপত্তির জেরে খুলে ফেলা হল নীল-সাদা কাপড়। তার জায়গায় লাগানো হল হলুদ-সাদা কাপড়। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকার এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং লেগেছে পুজোর মণ্ডপেও।
হরিশ্চন্দ্রপুরের ইয়ং বয়েজ ক্লাবে দীর্ঘদিন ধরেই গণেশপুজো হয়। এ বারও ধুমধাম করে পুজোর আয়োজন হয়েছিল। মণ্ডপের বাইরের অংশে ব্যবহার করা হয়েছিল নীল-সাদা কাপড়। পুজোর দিন আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে সেখানে গিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান এবং জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খান। তার পরেই মণ্ডপের রং নিয়ে আপত্তি ওঠে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বিজেপি নেতা অর্জুন কেশরী একটি ভিডিয়ো বার্তায় নীল-সাদা রং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ ছিল, ওই রং ব্যবহার করে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করা হচ্ছে। তবে ওই ভিডিয়োবার্তার সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। অভিযোগ, এর পরেই মণ্ডপের বাইরের নীল-সাদা কাপড় খুলে দেওয়া হয়। বদলে লাগানো হয় হলুদ-সাদা কাপড়।
ঘটনাটি ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে-মণ্ডপের কাপড়ের রং নিয়েও কি এখন রাজনীতির ছায়া পড়ছে? কারণ, রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে সরকারি পরিকাঠামো থেকে নানা অনুষ্ঠানস্থলে নীল-সাদা রঙের ব্যবহার ছিল পরিচিত দৃশ্য। ক্ষমতার পালাবদলের পরে সরকারি পরিসরে সেই রঙের ব্যবহার অনেকটাই বদলেছে। সেই আবহেই পুজোর মণ্ডপের রং ঘিরে এমন বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি করেছে।
তবে দলের জেলা নেতৃত্ব অবশ্য ওই আপত্তির সঙ্গে একমত নয়। মালদহ জেলা বিজেপির সম্পাদক রূপেশ আগরওয়ালের বক্তব্য, মণ্ডপের কাপড় কোন রঙের হবে, তা পুজো উদ্যোক্তাদেরই সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, ‘‘মণ্ডপের কাপড় যে কোনও রঙের হতে পারে। যার যেটা ইচ্ছা, সেটাই করবেন।’’ অর্থাৎ, মণ্ডপের কাপড় বদলালেও বিতর্কের রং বদলায়নি। বরং পুজোর আবহে রাজনৈতিক টানাপড়েনের প্রশ্নটাই এখন সামনে।





