কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ এক দিকে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দরজায় আইনি লড়াই। অন্য দিকে দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রার্থী বাছাই। সময়ও ফুরিয়ে আসছে। এরই মধ্যে কালীঘাটের অন্দরের আলোচনায় নন্দীগ্রামের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে উঠে আসছে অখিল গিরির নাম। ফলে জোড়াফুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই ভোটের ময়দানে ঘুঁটি সাজানোর কাজও এগিয়ে রাখছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।
নন্দীগ্রামে অখিল গিরি? রবিবার দুপুর পর্যন্ত কালীঘাটের অন্দরের খবর, প্রার্থী হিসাবে প্রাক্তন মন্ত্রী ও প্রাক্তন বিধায়কের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। রামনগরের দীর্ঘ দিনের নেতা অখিলকে এ বার নন্দীগ্রামের মাটিতে নামানোর কথা ভাবা হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে বড় কোনও পরিবর্তন না হলে তিনিই প্রার্থী হতে পারেন বলে তৃণমূলের অন্দরে জোর জল্পনা। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নন্দীগ্রাম অবশ্য অখিলের পরিচিত রাজনৈতিক ঘাঁটি নয়। তাঁর এত দিনের রাজনীতি মূলত রামনগরকে কেন্দ্র করেই। সেই তাঁকেই নন্দীগ্রামে পাঠানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়াকে তাই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে যে নন্দীগ্রাম ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তবে প্রার্থী বাছাইয়ের এই অঙ্কের পাশাপাশি আরও বড় প্রশ্ন ঝুলে রয়েছে দলের মাথার উপর তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রতীক নিয়ে টানাপড়েন এখন পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনের দরজায়। শনিবার দিল্লির নির্বাচন সদনে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন কমিশনের কর্তারা। বৈঠকের পর কালীঘাট শিবিরকে আগামী বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।
ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতেই মমতা শিবিরের কাছে এই জবাব চাওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টের মধ্যে নথি জমা দিতে হবে। তার একটি প্রতিলিপি ঋতব্রত শিবিরকেও দেওয়ার কথা। প্রয়োজন মনে করলে পরের দিন, ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টেয় বিশেষ শুনানিও হতে পারে। তার পর প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা রয়েছে।
সময়ের হিসাবটাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ১৬ সেপ্টেম্বরই নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। অর্থাৎ, একই দিনে এক দিকে প্রার্থী বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে, অন্য দিকে দলের প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষাও থাকবে।
তবে কালীঘাট শিবির আপাতত আত্মবিশ্বাসী। শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কমিশন কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়নি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের প্রার্থীরা যথারীতি দলের প্রতীক নিয়েই উপনির্বাচনে লড়বেন।
ঋতব্রত শিবিরও অবশ্য পিছিয়ে নেই। তাদের তরফে একাধিক চিঠি, ই-মেল, আলিপুর আদালতের নির্দেশের কপি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের চিঠি এবং তৃণমূলকে ‘ঢেলে সাজা’ নিয়ে পুরনো সংবাদ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
ফলে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের সামনে এখন দু’টি সমান্তরাল লড়াই। কমিশনের ঘরে জোড়াফুলের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন, আর মাঠে নন্দীগ্রাম-রেজিনগরের লড়াই। সেই লড়াইয়ে নন্দীগ্রামে অখিল গিরিকে নামানোর ভাবনা কতটা বাস্তব হয়, আর শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল কার হাতে থাকে দুই প্রশ্নের উত্তরই মিলতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে।





