কোচবিহার, ১১ সেপ্টেম্বরঃ উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে এ বার সুদূর গুজরাতের সোমনাথ। ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে ইতিহাসের টান দুই মিলিয়েই শুরু হতে চলেছে ‘সোমনাথ স্বাভিমান তীর্থযাত্রা’। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ব্যবস্থাপনায় কোচবিহার থেকে তীর্থযাত্রীদের নিয়ে এই বিশেষ যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।
তীর্থযাত্রাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কোচবিহারে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কোচবিহার থেকেই তীর্থযাত্রীরা সোমনাথের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
সোমনাথ মন্দির দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র। আরব সাগরের তীরে অবস্থিত এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং একাধিক ঐতিহাসিক পর্বের স্মৃতি। ফলে সোমনাথ দর্শন শুধু ধর্মীয় যাত্রা নয়, বহু মানুষের কাছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ।
কোচবিহারের মতো উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক জেলা থেকে এত দূরের তীর্থস্থানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাত্রার উদ্যোগে স্বাভাবিক ভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের যাতে যাত্রাপথে কোনও অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, সে দিকে প্রশাসনের নজর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই যাত্রাকে ঘিরে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি ‘স্বাভিমান’-এর ভাবনাটিও সামনে রাখা হয়েছে। সোমনাথের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা ঘটনা এবং মন্দির পুনর্নির্মাণের অধ্যায়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় স্তরে আলোচনা রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতির সঙ্গে তীর্থযাত্রীদের যোগসূত্র তৈরি করতেই এই যাত্রার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোচবিহার থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে সোমনাথে পৌঁছবেন তীর্থযাত্রীরা। পথে থাকবে যাত্রার নিজস্ব অভিজ্ঞতা, আর গন্তব্যে থাকবে সোমনাথ দর্শনের প্রত্যাশা।
জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই তীর্থযাত্রা কতটা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়, এখন সে দিকেই নজর। তবে যাত্রা শুরুর আগেই কোচবিহারে ‘সোমনাথ স্বাভিমান তীর্থযাত্রা’ ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসাহের আবহ।





