বহরমপুর, ১০ সেপ্টেম্বর: পুজোর আগেই বঙ্গে ভোটের দামামা। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। নন্দীগ্রামে জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্য ইতিমধ্যেই স্থির করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু বঙ্গ বিজেপির কাছে আসল পরীক্ষার নাম রেজিনগর। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে পদ্ম ফোটানো যে সহজ নয়, তা জানে দলও। তাই ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে বিজেপি।
বুধবার বহরমপুরের একটি হোটেলে রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী। প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভোটের রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে খবর। সূত্রের খবর, রেজিনগরের চারটি মণ্ডলের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে দলের বিধায়কদের মধ্যে।
বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র, বড়ঞার বিধায়ক সুখেন বাগদি এবং বেলডাঙার বিধায়ক ভরত ঝাওরকে দেওয়া হয়েছে মণ্ডলভিত্তিক দায়িত্ব। তাঁদের সঙ্গে মাঠে থাকবেন জেলার দুই মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ ও গার্গী ঘোষ দাস। শুধু সাংগঠনিক প্রস্তুতিই নয়, প্রার্থী বাছাই নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কোনও বিধায়ক বা মন্ত্রী প্রার্থী হতে চাইলে তাঁরাও নাম পাঠাতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আপাতত এগিয়ে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শাখারভ সরকারের নাম। পাশাপাশি জেলা সভাপতি মলয় মহাজনের নামও ঘুরছে। জল্পনা নিয়ে শাখারভের বক্তব্য, ‘‘দল যাঁকে যোগ্য মনে করবে, তাঁকেই প্রার্থী করবে।’’
অন্য দিকে মলয়ের দাবি, বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘রেজিনগর বিধানসভা জিতব এই লক্ষ্যেই বৈঠক হয়েছে।’’
তবে সংখ্যালঘু-প্রধান রেজিনগরে বিজেপির এই আত্মবিশ্বাস কতটা ভোটে প্রতিফলিত হয়, এখন নজর সেদিকেই। মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের দাবি, ‘‘যতই সাম্প্রদায়িক তাস খেলা হোক, এ বার রেজিনগরে পদ্মফুলই জিতবে।’’





