ফলতা, ১০ সেপ্টেম্বর: কর্মরত অবস্থাতেই হঠাৎ নিখোঁজ। দু’দিন ধরে তন্নতন্ন করে খুঁজেও মিলল না কোনও হদিস। তার পর বৃহস্পতিবার নদীর ধারে উদ্ধার হল দেহ। ফলতার সেচ দফতরের কর্মী তথা তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বুদ্ধদেব মণ্ডলের মৃত্যু ঘিরে এ বার একাধিক প্রশ্ন। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী? কেনই বা তাঁকে অপহরণ করা হল? খুনই যদি হয়ে থাকে, তার কারণ কী? উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামনগর থানার বরদা গ্রামের বাসিন্দা বুদ্ধদেব দক্ষিণ ২৪ পরগনার সেচ দফতরের চড়িয়াল সাব-ডিভিশনের অধীন ফলতা-বলরামপুর সেচ দফতরে কর্মরত ছিলেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ভাদুড়া-হরিদাস অঞ্চলের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ছিলেন বুদ্ধদেব।
পরিবারের দাবি, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কর্মরত অবস্থাতেই আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। কয়েক জন দুষ্কৃতী তাঁকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের পর বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে চার জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। এ দিকে বুদ্ধদেবের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল এবং ভাই সন্দীপন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান, দ্রুত যেন তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
কিন্তু দু’দিন পরেও সেই অপেক্ষার অবসান হল অন্য ভাবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের কাছে খবর আসে, নামখানার পাতিবুনিয়ায় নদীর ধারে একটি দেহ উদ্ধার হয়েছে। ফলতা থানার পুলিশ গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে সেটি বুদ্ধদেবের বলে শনাক্ত করেন।
কী ভাবে মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অপহরণের অভিযোগের সঙ্গে মৃত্যুর যোগই বা কোথায়, তা নিয়েও ধোঁয়াশা। রাজনৈতিক শত্রুতা, ব্যক্তিগত বিবাদ, নাকি অন্য কোনও কারণ সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উপনির্বাচনের আবহে তৃণমূল নেতার এই মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও।





