কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর: সত্তরের দশকের উত্তাল সময়। নকশাল আন্দোলনের অভিঘাতে তখন শুধু রাজপথ নয়, অস্থির হয়ে উঠেছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও। সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য গোপাল সেনের হত্যাকাণ্ড। এ বার প্রায় পাঁচ দশক আগের সেই ঘটনাই ফের বিধানসভার আলোচনায়। গোপাল সেন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রয়োজনে কমিশন বসানোর হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ‘অধ্যাপক বদলি’ বিল নিয়ে আলোচনার সময় বামপন্থী রাজনীতি ও নকশাল আন্দোলনের প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সূত্রেই উঠে আসে গোপাল সেনের নাম। শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘‘গোপাল সেনকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রয়োজন হলে কমিশন বসাব। আগের ঘটনা সব বার করব।’’
সত্তরের দশকে নকশাল আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বয়কটের ডাকও দিয়েছিল আন্দোলনকারীদের একাংশ। যাদবপুরেও সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন উপাচার্য গোপাল সেন। এর পরেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। ঘটনায় নকশালপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকারীদের একাংশ ওই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের যোগ থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন বলেও দাবি রয়েছে।
প্রায় পাঁচ দশক পর সেই পুরনো ঘটনাকে সামনে এনে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু। শুধু গোপাল সেন হত্যাকাণ্ড নয়, যাদবপুরের বর্তমান ক্যাম্পাস রাজনীতিকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘‘নামধারী জুটার লোকেরা কী কী করেছেন, সব তথ্য আছে।’’
এ দিন নকশাল রাজনীতির ‘শিকড়’ উপড়ে ফেলার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ক্যাম্পাসে এখনও বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নকশালপন্থী মানসিকতার প্রভাব রয়েছে। ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’, ‘ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে’ কিংবা ‘লাল সেলাম’-এর মতো স্লোগান নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।
ফলে শিক্ষক বদলি বিলের বিতর্ক ছাপিয়ে বিধানসভার মঞ্চে উঠে এল বহু পুরনো এক হত্যাকাণ্ড। এখন প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর সত্যিই কি গোপাল সেন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে কোনও কমিশন গঠিত হবে?





