শীতলকুচি, ৫ সেপ্টেম্বরঃ চোরাই মোটরসাইকেলের কারবারে বড়সড় ধাক্কা কোচবিহার জেলা পুলিশের। একটি মামলার তদন্তে নেমে তিন জনকে গ্রেফতার করার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে একাধিক সূত্র। সেই সূত্র ধরেই শীতলকুচি থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় চোরাই বাইকের ‘লিফট’ থেকে ‘রিসিভ’ চক্রের পরিধি কতটা বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শীতলকুচি থানায় সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযানের কথা জানান মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিকি আগরওয়াল। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৩ আগস্ট শীতলকুচি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে নেমেই প্রথমে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতেরা হলেন সাগরডাঙ্গার আকাশ দে(২৫), বাবলু দাস(৩১) এবং মাথাভাঙার আন্দারাম ফকিরহাগার অজয় দাস(২৭)।
পুলিশের দাবি, ধৃত অজয় চোরাই মোটরসাইকেল ‘লিফট’ এবং ‘রিসিভ’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। অর্থাৎ চুরি করা বাইক সরিয়ে নেওয়া এবং পরে তা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ধৃতদের পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শীতলকুচির বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানেই একসঙ্গে ১২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়। বাইকগুলির প্রকৃত মালিকানা, কোথা থেকে সেগুলি চুরি হয়েছিল এবং কী ভাবে সেগুলি শীতলকুচি এলাকায় পৌঁছল সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৩(২) ও ৩১৭(৪) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলির নথিপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি চক্রের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত কি না, তারও সন্ধান চলছে।
পুলিশ প্রশাসনের নজর এখন শুধু ধৃত তিন জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চোরাই বাইকের ‘সাপ্লাই লাইন’, ক্রেতা কিংবা মধ্যস্থতাকারী আরও কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তদন্তে তার উত্তর খুঁজছেন আধিকারিকেরা। ধৃতদের আদালতে পেশ করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।





