সিতাই, ৫ সেপ্টেম্বরঃ দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল সিতাইয়ে। শুক্রবার রাতে ছাট সিঙ্গিমারী গ্রামের মণ্ডলটাড়ি এলাকায় নিজের বাড়িতেই মৃত্যু হয় রিঙ্কি রায় সরকারের(১৬)। শনিবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিতাই থানার পুলিশ। মৃত্যুর কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিজের ঘরে ঘুমোতে যায় রিঙ্কি। একই ঘরে অন্য একটি বিছানায় ছিলেন তাঁর বাবা। পরিবারের দাবি, রাত আড়াইটে নাগাদ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। তখনই মেয়েকে অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হতেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে যায় সিতাই থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাথাভাঙা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তরফে ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্তের পথে এগোচ্ছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করা হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে চাইছেন না তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃত্যুর আগে ওই ছাত্রীর কোনও অস্বাভাবিক আচরণ ছিল কি না, কারও সঙ্গে কোনও বিরোধ বা যোগাযোগ হয়েছিল কি না পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলে সেই বিষয়গুলিও জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ বা কারও প্ররোচনা ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
তবে তদন্তের এই পর্যায়ে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনাকে দায়ী করার মতো তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে বলে জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ করা হবে। পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনে ফরেন্সিক তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে মৃত ছাত্রীর পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও।





