শিলিগুড়ি, ৪ সেপ্টেম্বরঃ ট্রেন বাতিল। কোথাও রুট বদলেছে। কোথাও আবার মাঝপথেই আটকে পড়েছে রেল পরিষেবা। নিউ ফরাক্কার কাছে রেললাইনে ধসের জেরে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগে যে ধাক্কা লেগেছে, তার সরাসরি আঁচ এখন শিলিগুড়ির বাস টার্মিনাসে। কলকাতা যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিট কাটা যাত্রীরা এখন ভিড় করছেন বাস কাউন্টারে। আর সেই ভিড় সামলাতে হিমশিম অবস্থা সরকারি-বেসরকারি দুই পরিবহণ ব্যবস্থারই।
রেল পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়ায় শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস থেকে কলকাতাগামী সরকারি বাসে আচমকাই বেড়েছে চাপ। সাধারণ দিনে এই টার্মিনাস থেকে কলকাতার উদ্দেশে গড়ে পাঁচটি বাস ছাড়ে। কিন্তু রেলপথে বিপর্যয়ের পর সেই বাসগুলির আসন ইতিমধ্যেই পূর্ণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সরকারি বাস রাস্তায় নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম।
কিন্তু সরকারি বাসে জায়গা কোথায়? ফলে অনেক যাত্রী বাধ্য হচ্ছেন বেসরকারি বাসের দিকে যেতে। আর সেখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন সমস্যা। যাত্রীচাপের সুযোগ নিয়ে বেসরকারি বাসে ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ উঠছে। অর্থাৎ ট্রেনের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে যাত্রীদের এক দিকে ভিড়ের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে, অন্য দিকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
শিলিগুড়ি থেকে কলকাতার দূরত্ব এমনিতেই কম নয়। রাতের ট্রেন ধরে যাতায়াতের উপর নির্ভর করেন উত্তরবঙ্গের বহু মানুষ। রেল পরিষেবা হঠাৎ ব্যাহত হওয়ায় তাঁদের যাত্রাপথের হিসাবও বদলে গিয়েছে। কারও অফিস, কারও চিকিৎসা, কারও জরুরি কাজ সব কিছুর মধ্যেই এখন প্রশ্ন, কখন এবং কী ভাবে কলকাতা পৌঁছবেন।
রেলপথে মেরামতির কাজ চলছে। কিন্তু পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে যত সময় লাগবে, ততই বাসের উপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা। সেই চাপ সামলাতে সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়ানোই আপাতত প্রশাসনের অন্যতম ভরসা।
নিউ ফরাক্কার ধস তাই শুধু রেললাইনে আটকে নেই। তার অভিঘাত এসে পড়েছে সড়কপথেও ট্রেনের টিকিট হাতে নিয়েও এখন শিলিগুড়ির যাত্রীদের অনেকের গন্তব্য কলকাতা, আর সেই পথের ভরসা বাস।





