কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বরঃ ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয় ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। দলীয় কার্যালয়ের বাইরের বিলবোর্ড সরানো নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহ কাটতে না কাটতেই সেখানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে দমকলের পরিদর্শন। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই নতুন করে সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিলবোর্ড সরানোর তিন দিনের মাথায় আচমকাই ফায়ার অডিটের নোটিস পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
সোমবার শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই বহুতলে যায় দমকলের একটি দল। ভবনের বাইরের অংশ থেকে শুরু করে ভিতরের বিভিন্ন তলা, বেসমেন্ট এবং ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়। অভিষেকের কার্যালয় যে সাত ও আট তলায়, সেখানেও যান আধিকারিকেরা। ফায়ার অ্যালার্ম, জরুরি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করা হয়।
দমকলের বক্তব্য, ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক ত্রুটি নজরে এসেছে। ফায়ার অ্যালার্ম ব্যবস্থা কার্যকর না থাকা এবং হিট ডিটেক্টর ও স্মোক ডিটেক্টরের ঘাটতির কথাও জানানো হয়েছে। ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি হয়েছে কি না, তার পাশাপাশি বাইরের একটি শেড নিয়েও আপত্তির কথা জানা গিয়েছে। দমকলের দাবি, এর আগে ওই ভবনে এক বারই ফায়ার অডিট হয়েছিল।
এই পরিদর্শনের সময় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। ‘এক্স’-এ পোস্ট করে তাঁর দাবি, বিরোধী দলের কার্যালয়ে আচমকা অগ্নিনিরাপত্তার তৎপরতা দেখানো হলেও আলিপুরে ইভিএম পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় একই রকম সক্রিয়তা দেখা যায়নি। সেই প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতেই পরিদর্শন। ফলে রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের আবহে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে ঘিরে এখন নজর দমকলের পরবর্তী পদক্ষেপে।





