কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বরঃ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহ এখনও কাটেনি। ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন নিয়ে বিতর্ক, ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘাত, পালটা মিছিল সব মিলিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। সেই আবহেই এবার যাদবপুরে জাতীয়তাবাদী সম্মেলনের আয়োজন করছে বিজেপি। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন মঞ্চে এই কর্মসূচি হওয়ার কথা। উপস্থিত থাকার কথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত-সহ দলের একাধিক নেতার।
ক্যাম্পাসের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ কিংবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’-র মতো লেখা দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই দেওয়াল লিখন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হন। তাঁর বক্তব্যের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই লেখাগুলি মুছে দেয় বলে জানা গিয়েছে। তবে দেওয়াল লিখনের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা থামেনি।
এর মধ্যেই আগস্টের মাঝামাঝি এসএফআই ও এবিভিপির কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। দুই পক্ষের তরফেই পালটা কর্মসূচি ও হামলার অভিযোগ ওঠে। জিবি বৈঠক ঘিরেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল ক্যাম্পাসে। ফলে নতুন করে বিজেপির এই সম্মেলন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি চলে আসছে, তার পরিবর্তন প্রয়োজন। ক্যাম্পাসে কোনও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান বা কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও দলের তরফে বক্তব্য এসেছে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের বক্তব্য, পঠনপাঠনের পরিবেশই তাঁদের মূল লক্ষ্য; রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে সব পড়ুয়াকে এক করে দেখা উচিত নয়।
এই পরিস্থিতিতে ৪ সেপ্টেম্বরের সম্মেলন নিছক দলীয় কর্মসূচি, নাকি যাদবপুরের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা সেদিকেই নজর থাকবে।





