নয়াদিল্লি, ১ সেপ্টেম্বরঃ জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহের বিক্ষোভ ঘিরে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর আপাতত স্বস্তি ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের। ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যে মামলাগুলি দায়ের হয়েছিল, সেগুলি প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে দিল্লি পুলিশের চিহ্নিত ২৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে অতীতের অপরাধের রেকর্ড থাকলে তাঁদের ক্ষেত্রে মামলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আদালতের এই নির্দেশের পরই আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ঘোষিত মেগা প্রতিবাদ মিছিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ জুলাই। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা-সহ পাঁচ দফা দাবিতে সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়া ও দলের সমর্থকেরা দিল্লিতে জড়ো হন। সেই কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। পরে দিল্লি ছাড়াও একাধিক রাজ্যে বিক্ষোভ হয় এবং সেখানেও মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে দলের তরফে দাবি করা হয়।
এর পর কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির দাবি, আলোচনার পর ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেন এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে লিখিত আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই আশ্বাস অনুযায়ী সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলে ককরোচ নেতৃত্ব। দিল্লি-সহ বিভিন্ন জায়গায় মামলা চলতে থাকায় ফের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দলের বক্তব্য।
এই পরিস্থিতিতেই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের বিক্ষোভের জেরে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। তবে দিল্লি পুলিশের তালিকায় থাকা ২৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে অতীতের অপরাধের রেকর্ড থাকলে তাঁদের মামলা এই নির্দেশের আওতায় পড়বে না।
আদালতের নির্দেশের পর ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ফলে জুলাইয়ের বিক্ষোভের পর তৈরি হওয়া আইনি জট আপাতত নতুন মোড় নিল।





