কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বরঃ ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড খোলা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের কিছু পর, দুপুর ১২টা ১৭ মিনিট নাগাদ নিজের গাড়িতে করে শেক্সপিয়র সরণি থানায় পৌঁছন তিনি। তাঁকে ঘিরে তখন থানার বাইরে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলতে থাকে স্লোগান। অভিষেক থানায় যতক্ষণ থাকবেন, ততক্ষণ তাঁরা বাইরে অপেক্ষা করবেন জানান সমর্থকেরা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ আগস্ট। ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের পার্টি অফিসের একটি বিলবোর্ড সরাতে পুরকর্মী ও পুলিশ আধিকারিকেরা সেখানে পৌঁছন। তাঁদের সঙ্গে গ্যাস কাটারও ছিল বলে জানা যায়। পুলিশের বক্তব্য, বিলবোর্ডটি বেআইনি হওয়ায় সেটি সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছন অভিষেক। তাঁর দাবি ছিল, বিলবোর্ড খোলার নির্দেশ সংক্রান্ত নথি তাঁকে দেখানো হয়নি। তা নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরে পুলিশের তরফে অভিষেকের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। নোটিস দিয়ে মঙ্গলবার তাঁকে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছিল। সেই নোটিস মেনেই এ দিন থানায় পৌঁছন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
তবে থানার বাইরে তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে আলাদা রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়। ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে শেক্সপিয়র সরণি। বৃষ্টিতে ভিজেও কর্মী-সমর্থকদের একাংশকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
এই মামলায় শুধু অভিষেক নন, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন আইপিএস তথা প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও নোটিস দিয়েছে পুলিশ। তলব করা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কেও।
অর্থাৎ, একটি বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বচসা এখন পৌঁছে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরের নতুন পর্বে। থানায় অভিষেকের হাজিরা সেই ঘটনাকেই আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলল।





