কলকাতা, ৩১ আগস্টঃ বিলবোর্ড খুলতে গিয়ে যে সংঘাতের শুরু, তা এখন গড়িয়েছে এফআইআর, পুলিশি নোটিস এবং অনলাইন নথির স্বচ্ছতা নিয়ে টানাপোড়েনে। ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় মঙ্গলবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় তলব করা হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার আগেই পুলিশের কাছে ই-মেল পাঠিয়ে এফআইআর ও নোটিসের অনলাইন কপি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাঁর পক্ষ। ফলে নির্ধারিত দিনে তিনি থানায় হাজির হবেন কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
রবিবার রাতে অভিষেকের আইনজীবী অর্ক নাগ দাবি করেন, ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিস থেকে বিলবোর্ড খোলার ঘটনায় পুলিশ নোটিস পাঠালেও কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে তার কপি বা এফআইআর পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি ‘ত্রুটি’ বলে উল্লেখ করে পুলিশকে ই-মেল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। যদিও পুলিশের তরফে পাল্টা দাবি, সংশ্লিষ্ট নথি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। অর্থাৎ, মামলা এখন শুধু আইনের ধারায় নয়, ডিজিটাল নথির উপস্থিতি নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে ভাগ হয়ে গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২৭ অগস্ট। সে দিন ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের পার্টি অফিসে পুরকর্মী ও পুলিশ পৌঁছে একটি ‘বেআইনি’ বিলবোর্ড খুলতে যায়। সঙ্গে ছিল গ্যাসকাটার। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান অভিষেক। তাঁর দাবি, বিলবোর্ড খোলার নির্দেশের কাগজ দেখাতে পারেননি আধিকারিকেরা। এর পরেই শুরু হয় বচসা এবং উত্তেজনা। ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা হয়েছে।
প্রশাসনের যুক্তি, নিয়ম ভাঙলে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে পদক্ষেপ করাই স্বাভাবিক। অন্য দিকে তৃণমূলের প্রশ্ন, প্রশাসনিক পদক্ষেপের পদ্ধতি এবং আইনি নথি প্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় থাকছে তো?
এর মধ্যেই একই মামলায় সোমবার ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি হাজিরা এড়িয়ে সাত দিন সময় চেয়েছেন।
ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের একটি বিলবোর্ড ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন আর শুধু একটি নির্মাণ বা পুর-নিয়মের প্রশ্নে আটকে নেই। রাজনীতি, প্রশাসন এবং ডিজিটাল স্বচ্ছতার ত্রিমুখী সংঘাতে নতুন মাত্রা পেয়েছে মামলা। মঙ্গলবার অভিষেকের অবস্থান কী হয়, নজর এখন সেদিকেই।





