নন্দীগ্রাম,৩১ আগস্টঃ বড় শিল্পের পাশাপাশি ছোট ছোট মানুষের পুঁজি, শ্রম এবং উদ্যোগকে এক ছাতার তলায় এনে অর্থনীতির চাকা ঘোরানো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, সেই পথের নাম সমবায়। সোমবার মধ্যমগ্রামে মহিলা পরিচালিত একটি সমবায় সমিতির অনুষ্ঠানে গিয়ে সমবায়কে ‘বিকল্প অর্থনীতি’র শক্তিশালী হাতিয়ার হিসাবে তুলে ধরলেন তিনি। তাঁর দাবি, সমবায় আন্দোলন শক্তিশালী হলে নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত খুলবে, বাড়বে কর্মসংস্থান, একই সঙ্গে এগোবে নারীর ক্ষমতায়ন।
তবে সমবায়ের কথা বলতে গিয়ে রাজনীতিও এড়ালেন না মুখ্যমন্ত্রী। গত ১৫ বছরে সমবায় আন্দোলন অবহেলিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে পূর্বতন সরকারকে নিশানা করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘বোঝালেও বুঝতেন না। কেউ কিছু বলতে গেলেই বলতেন, আমি তো সব জানি। আর আমি বলি, আমি কিছু জানি, অনেক কিছুই শিখছি।’’
শুভেন্দুর বক্তব্য, সমবায় কোনও ছোটখাটো আর্থিক সংগঠন নয়, এটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক আন্দোলন। পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে প্রাথমিক সমবায় সমিতিতেও নির্বাচন হয়নি। ফলে সমবায়ের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়েছে।
মহিলাদের পরিচালিত সমবায়কে সামনে রেখে নারী স্বনির্ভরতার দিকটিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সমবায় যত বাড়বে, ততই বাড়বে মহিলাদের আর্থিক অংশগ্রহণ। পরিবারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকা শক্তিশালী হবে।
তবে শুধু সরকারি সাহায্য নয়, সমবায়ের ভিতরেও শৃঙ্খলা চান মুখ্যমন্ত্রী। ঋণ দেওয়া এবং আদায়ের ক্ষেত্রে আত্মীয়তা কিংবা রাজনৈতিক পক্ষপাত যেন জায়গা না পায়, সেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর পরামর্শ, প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের মধ্যে অডিট শেষ করতে হবে।
আধুনিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও খরচ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন শুভেন্দু। অতিথি আপ্যায়নে একাধিক উপহার দেওয়ার বদলে একটি ফুল, উত্তরীয় বা মাতৃমূর্তি দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। কারণ অপ্রয়োজনীয় খরচ শেষ পর্যন্ত সমিতির সদস্যদেরই বহন করতে হয়।
অর্থাৎ, সমবায়কে ঘুরে দাঁড় করানোর বার্তার সঙ্গে জুড়ে গেল রাজনৈতিক অতীতের সমালোচনা এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। এখন প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত সংস্কার ও শৃঙ্খলার পথে রাজ্যের সমবায় ব্যবস্থা কতটা বদলায়।





