কলকাতা, ২৫ আগস্টঃ আগামী শুক্রবার, ২৮ আগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। আর সেই কর্মসূচি ঘিরে তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে দুই পক্ষকেই প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের অনুমতি দিল আদালত। তবে মেয়ো রোডে কাউকেই সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কালীঘাটপন্থী শিবির ক্যাথিড্রাল রোডে এবং ঋতব্রতপন্থী শিবির ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে কর্মসূচি করবে।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এ দিন মামলাটির শুনানি হয়। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, দুই শিবিরের কোনও সভাতেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ জমায়েত করতে পারবেন না। সভার সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে ৩টের মধ্যেই দুই পক্ষকে কর্মসূচি শেষ করতে হবে।
শুধু জমায়েতের সংখ্যাই নয়, নিরাপত্তা এবং যান চলাচল নিয়েও একাধিক শর্ত দিয়েছে আদালত। আগামী বুধবারের মধ্যে ২০ জন করে স্বেচ্ছাসেবকের ফোন নম্বর পুলিশকে দিতে হবে দুই শিবিরকেই। কর্মসূচির দিন যাতে রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও आयोजকদের উপর থাকবে। পাশাপাশি দুই সভাকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
তবে দুই পক্ষকে উদ্দেশ্য করে আদালতের বার্তা, ‘‘একযোগে অনুষ্ঠান করুন। ব্রিগেডে ১০ হাজার জমায়েতের অনুমতি দেব।’’ অর্থাৎ সংঘাত এড়িয়ে বৃহত্তর পরিসরে একসঙ্গে কর্মসূচি করার ইঙ্গিতও দিয়েছে আদালত।
প্রতি বছর মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হয়। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এ বার পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ বদলে গিয়েছে। দল ভেঙে একাধিক শিবির তৈরি হয়েছে। গত ২১ জুলাইও পৃথক ভাবে শহিদ দিবস পালন করেছিল দুই পক্ষ।
এ বার ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসেও সেই বিভাজনের ছায়া। মেয়ো রোডে জায়গা না পেয়ে দুই শিবিরকে পৃথক পথে হাঁটার নির্দেশ দিল হাই কোর্ট। ফলে ২৮ আগস্ট শহরের দুই প্রান্তে দুই কর্মসূচির দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।





