কলকাতা, ১৪ আগস্টঃ বদলের বাংলায় স্বাধীনতা দিবসের উদ্যাপনেও নতুন সংযোজন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফের ১৫ অগস্ট রাজ্যবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা সম্প্রচারিত হতে চলেছে। শনিবার স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের পরেই দূরদর্শনে সম্প্রচারিত হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য।
বিজেপি সূত্রের খবর, সপ্তাহখানেক আগে দলের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজ্যবাসীর সামনে সরকারের আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলেই প্রস্তাবে জানানো হয়। সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই রেকর্ড করা হয়েছে শুভেন্দুর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ। শনিবার প্রথমে দূরদর্শনে সম্প্রচারিত হবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। তার পরেই শোনা যাবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য।
বিজেপির বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছাবার্তা নয়। নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দর্শন রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরারও বড় সুযোগ। কর্মসংস্থান, শিল্প, পরিকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক সংস্কার আগামী পাঁচ বছরে কোন কোন ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার দেবে, সেই বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দলের এক নেতার কথায়, ‘‘নতুন সরকার গঠনের পর মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের মাধ্যমে সেই প্রত্যাশার জায়গাগুলি সম্পর্কে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ রয়েছে।’’
এর পিছনে রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে বলে মনে করছে বিজেপি। দলের যুক্তি, দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই স্বাধীনতা দিবসে মুখ্যমন্ত্রীরা রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন। কিন্তু গত ১৫ বছরে বাংলায় এমন নির্দিষ্ট বার্তা দেওয়ার রীতি ছিল না। নতুন সরকার সেই প্রথা ফের চালু করছে।
নবান্ন সূত্রে অবশ্য ভাষণের বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে নতুন সরকারের প্রথম স্বাধীনতা দিবস এবং তার আগে একাধিক বড় সিদ্ধান্তের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষত, ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সে দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।





