পানাগড়, ১৪ আগস্টঃ দুই ছাত্রের ঝামেলা ঘিরে প্রথমে অভিভাবকদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল স্কুলে। অভিযোগ, তাঁদের সামনেই এক নবম শ্রেণির ছাত্রকে শাসনের নামে গলা টিপে মারধর করেন প্রিন্সিপাল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পানাগড়ের একটি স্কুল চত্বর। স্কুলে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে লাঠিচার্জ করল পুলিশ। ঘটনায় বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্কুলে নবম শ্রেণির দুই ছাত্রের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় এক ছাত্রের অভিভাবকদের স্কুলে ডেকে পাঠান কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, সেখানে প্রিন্সিপালের সঙ্গে ওই ছাত্রের তর্কাতর্কি শুরু হয়। এর পরেই প্রিন্সিপাল ওই ছাত্রের গলা টিপে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ। অভিভাবকদের সামনেই এই ঘটনা ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের।
ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে স্কুল শুরুর আগেই স্থানীয়দের একাংশ স্কুলের সামনে জড়ো হন। এক শিক্ষক স্কুলে ঢোকার সময় তাঁকে আটকে রাখার অভিযোগও ওঠে। খবর পেয়ে কাঁকসা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিন্তু পুলিশ ফিরে যাওয়ার পরেই পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ স্কুলে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। স্কুলের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। খবর পেয়ে ফের বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়।
বিক্ষোভকারীদের সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বেশ কিছু ক্ষণ ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ কয়েক জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার রাসপ্রিত সিং বলেন, ‘‘দুই ছাত্রের মধ্যে গণ্ডগোল হয়েছিল। পরে সেই বিবাদ স্কুলের প্রিন্সিপালের সঙ্গেও হয়। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’’ পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও পানাগড়ে স্কুলের ঘটনা ঘিরে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।





