কাঁচরাপাড়া, ১০ আগস্টঃ রাজনীতির ময়দানে মতের ফারাক থাকতেই পারে। কিন্তু মৃত্যুর ঘটনায় সেই বিভাজন সরিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মী বিরজু কুমারের বাড়িতে সোমবার সকালে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সেখানে পৌঁছতে পারেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হালিশহর থানাতেও যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিরজু কুমারের মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া-হালিশহর এলাকা। শুক্রবার রাতে কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজুকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তোলাবাজি ও মারামারির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরিবারের বক্তব্য, গ্রেফতারের পর তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষাও হয়। সন্ধ্যায় জেলে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন স্ত্রী। তখন তিনি সুস্থই ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
পুলিশের দাবি, শনিবার ভোররাতে লকআপে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় বিরজুকে। কল্যাণীর জহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।
রবিবার বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন ও উপাসনা চৌধুরী। সেই সময় তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। গাড়িতে কাদা, জল এবং জুতো ছোড়া হয় বলেও দাবি তৃণমূলের। ওঠে স্লোগানও।
ঘটনার পরেই মমতাকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন বার্তা দিলেন তিনি। অন্য দিকে, মমতার গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সোমবার মিছিলের ডাক দিয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। বিধানসভাতেও প্রতিবাদের প্রস্তুতি রয়েছে।
হালিশহর এখন তাই শুধু একটি মৃত্যুর তদন্তের প্রশ্নে নয়, রাজনীতির উত্তাপেও নজরের কেন্দ্রে। সেই আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর নিহতের বাড়ি যাওয়া ‘বদলের বাংলায়’ সৌজন্যের বার্তা কতটা জোরালো করে, সেটাই এখন দেখার।





