কলকাতা, ৯ আগস্টঃ ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখা গণতন্ত্রের পক্ষে ভাল বিজ্ঞাপন নয়। বরং তা ‘ফ্যাসিজম’। এমনই মন্তব্য ‘আসল’ তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর দাবি, রাজ্যে সরকার বদলের পরে আর দেরি না করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন করা হোক। এই দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, ছাত্র সংসদের নির্বাচন রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম প্রধান পথ। তাঁর কথায়, ‘‘রাজনীতির আসল সাপ্লাই লাইন ছাত্রনেতারা। ছাত্র সংসদের ভোটেই তাঁরা উঠে আসেন।’’ এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উদাহরণও টেনেছেন তিনি। তাঁর দাবি, শুভেন্দু অধিকারীও ছাত্র রাজনীতি থেকেই উঠে এসেছেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুটাও ছাত্র রাজনীতিতে। এক সময় এসএফআইয়ের পরিচিত মুখ ছিলেন ঋতব্রত। জাতীয় স্তরেও বাম ছাত্রনেতা হিসাবে সক্রিয় ছিলেন। পরে বাম শিবির থেকে বহিষ্কৃত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যোগ দেন। রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে বিধায়ক হন। সরকার বদলের পর মমতা শিবিরের বিরোধিতা করে নিজেকে ‘আসল’ তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা হিসাবে তুলে ধরছেন তিনি।
শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের ১৩ বিধায়কের বৈঠকেও ছাত্রভোটের প্রসঙ্গ তোলেন ঋতব্রত। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্র রাজনীতিতে নানা ‘অবাঞ্ছিত’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি এক প্রাক্তন সহপাঠীর কথা তুলে ধরেন যিনি বর্তমানে একটি কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী, আবার ছাত্র সংসদের জিএসও।
ঋতব্রতের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে নিয়মিত নির্বাচনই একমাত্র পথ। আগামী ১২ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ডিএসও-র আগামী ১ সেপ্টেম্বর কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের ডাকও রয়েছে। ফলে ছাত্রভোট ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ বাড়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।





