কলকাতা, ২ আগস্টঃ চার বছরের পরিচয়, তারপর প্রেম। কিন্তু সেই সম্পর্ক কি শুধুই ব্যক্তিগত ছিল, নাকি তার আড়ালে লুকিয়ে ছিল বড়সড় জঙ্গি চক্রের নকশা? পাকিস্তান-যোগে ধৃত হামিম মণ্ডল এবং ঝাড়খণ্ডের তরুণী অর্পিতা সরকারের সম্পর্কের তদন্তে এমনই এক জটিল চিত্র উঠে আসছে বলে দাবি রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর।
তদন্তকারীদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ হন হামিম ও অর্পিতা। পরে সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিশানা করার পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ, হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে যোগাযোগ রেখে তাঁকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন অর্পিতা। এরপর অপহরণ করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের ছকও কষা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এসটিএফের ধারণা, শুধু একজন নন, আরও একাধিক ব্যক্তিকে একই কৌশলে ব্ল্যাকমেল ও অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল এই চক্রের। তদন্তকারীদের মতে, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশেই হামিম ও অর্পিতাকে ব্যবহার করে একটি স্থানীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছিল। সম্ভাব্য টার্গেট চিহ্নিত করা, তাঁদের গতিবিধির উপর নজর রাখা এবং সুযোগ বুঝে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনাও ছিল বলে দাবি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা অর্পিতা সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। মডেলিং, ভ্রমণ ও রিল তৈরির সূত্রেই তাঁর পরিচয় হয় হামিমের সঙ্গে। হামিম নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে সেই সম্পর্কই নাকি জঙ্গি চক্রের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়।
তবে তদন্তকারীরা এখনও খতিয়ে দেখছেন, অর্পিতা শুরু থেকেই এই চক্রের অংশ ছিলেন, নাকি পরে তাঁকেও প্রলোভন ও প্রভাব খাটিয়ে কাজে লাগানো হয়েছিল। পাশাপাশি, এই ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রে আরও কারা জড়িত এবং রাজ্যে এমন কতগুলি সক্রিয় নেটওয়ার্ক রয়েছে, তা জানতেই তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।





