কলকাতা, ২৩ জুলাইঃ সব মামলায় একসঙ্গে ‘রক্ষাকবচ’ দেওয়া যায় কি ? তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন ঘিরে বৃহস্পতিবার এই প্রশ্নই তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, প্রতিটি মামলার অভিযোগ আলাদা। তাই সব ক্ষেত্রে একই ধরনের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিলে তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিষেকের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় মোট আটটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ‘ডিজে মন্তব্য’ সংক্রান্ত মামলায় তিনি আগেই আদালতের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছেন। বাকি মামলাগুলিতেও যাতে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা না যায়, সেই আবেদন নিয়েই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে যে রক্ষাকবচ রয়েছে, তা শুধুমাত্র একটি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই সব মামলার জন্য সার্বিক সুরক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু বিচারপতি বলেন, শিলিগুড়ির অভিযোগ এক রকম, ভবানীপুরের অভিযোগ আর এক রকম। সব অভিযোগকে এক ছাতার তলায় এনে একই নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।
শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু আদালতের কাছে সময় চান। সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩০ জুলাই।
শুনানিতে সিব্বল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ তুললে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সেই প্রসঙ্গ এখানে প্রাসঙ্গিক নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও সব মামলায় একযোগে সার্বিক রক্ষাকবচ দেওয়া হয়নি। পৃথক মামলায় পৃথকভাবে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বা আগাম জামিন মিলেছিল।
তবে আপাতত অভিষেকের জন্য একটি পথ খোলা রেখেছে আদালত। বিচারপতি জানিয়েছেন, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও তদন্তকারী সংস্থা বা পুলিশ পদক্ষেপ করলে, তিনি অবিলম্বে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন। ফলে সার্বিক রক্ষাকবচ না মিললেও, আপাতত আইনি দরজা পুরোপুরি বন্ধ হল না তৃণমূল সাংসদের জন্য।





