নিজস্ব সংবাদদাতা, ২০ জুলাইঃ কর্মী-সংকটে জেরবার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। সেই ঘাটতি মেটাতে চলতি বছরেই ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় রাজ্য সরকার। তবে নিয়োগের পদ্ধতিতে আনতে চলেছে বড় পরিবর্তন। এতদিন জেলা স্তরে পঞ্চায়েত আইনের আওতায় নিয়োগ হলেও, এ বার সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) হাতে। সোমবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই ঘোষণা করেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
মন্ত্রীর কথায়, কর্মীর অভাবে বহু পঞ্চায়েতে স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। সেই কারণেই দ্রুত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের কাজ শেষ করেই ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
বর্তমানে পঞ্চায়েত কর্মী নিয়োগ হয় পঞ্চায়েত আইনের নির্দিষ্ট বিধান মেনে জেলা স্তরে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আইন সংশোধনের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা পিএসসির হাতে তুলে দেওয়া হবে। সরকারের মতে, কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ হলে স্বচ্ছতা ও অভিন্ন মানদণ্ড বজায় রাখা সহজ হবে।
দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্যে সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী এক লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পঞ্চায়েত দপ্তরের এই নিয়োগ সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের অন্যতম ধাপ বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারি সূত্রের দাবি, রাজ্যের বহু পঞ্চায়েতে বর্তমানে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কর্মীর অভাব, কোথাও আবার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ আটকে রয়েছে। একাধিক জায়গায় পঞ্চায়েত বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানো হয়েছে। ফলে নথিপত্রে সই থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন নানা ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কর্মী নিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। আইন সংশোধনের পর পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ শুরু হলে পঞ্চায়েত প্রশাসনে শূন্যপদ অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা প্রশাসনের। তবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, পদের সংখ্যা ও যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য আইন সংশোধনের পরই প্রকাশ করা হবে বলে পঞ্চায়েত দপ্তর সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।





