কোচবিহার, ৯ জুলাইঃ সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, ‘কাটমানি’ আদায় এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের টাকাগাছ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পঞ্চায়েত প্রধান রুমি বর্মনের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান ওঠে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই বিক্ষোভকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পুলিশি নজরদারিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত প্রায় ১৫ বছরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আবাসন, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প এবং অন্যান্য সরকারি পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও তাঁদের দাবি। অভিযোগ, প্রকল্পের সুবিধা পেতে বহু মানুষকে ‘কাটমানি’ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্যে কোনও নথি পেশ করেননি।
স্থানীয়দের আরও দাবি, প্রশাসনিক পরিবর্তনের পরও এলাকায় বহু প্রকৃত উপভোক্তা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, যোগ্যদের পরিবর্তে অন্যদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেই কারণেই পঞ্চায়েতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে পথে নামেন তাঁরা।
বিক্ষোভের সময় প্রধানের বাড়ির সামনে উত্তেজনা তৈরি হলেও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখে স্থানীয় প্রশাসন। পরে বিক্ষোভকারীরা তাঁদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে দ্রুত তদন্ত এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান রুমি বর্মন। তাঁর দাবি, কাটমানি বা কোনও ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তদন্তে যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হয়, অথবা দল প্রয়োজন মনে করে, তবে পদত্যাগ করতেও তিনি প্রস্তুত।
টাকাগাছের এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবহে এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে, প্রধানের বক্তব্য, সত্য সামনে এলেই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হবে। ফলে টাকাগাছের এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন আগামী দিনে আরও গতি পেতে পারে বলেই মনে করছে স্থানীয় মহল।





