কলকাতা, ২৩ জুনঃ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এল সোমবার। ‘আসল’ তৃণমূলের ব্যানারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে সক্রিয় থাকার অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খান-সহ একাধিক প্রথম সারির নেতাকে শোকজ করল কালীঘাটের তৃণমূল। শোকজের তালিকায় রয়েছেন রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, সাবিনা ইয়াসমিন-সহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এই পদক্ষেপে শাসকদলের অন্দরে চলা দ্বন্দ্ব যে নতুন মাত্রা পেল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল’ তৃণমূলের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই বৈঠকে দেখা যায় কলকাতার ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৌরভ বসুকেও। শুধু বৈঠকই নয়, এদিন ‘আসল’ তৃণমূলের তরফে নতুন জাতীয় কর্মসমিতির ঘোষণাও করা হয়। সেই কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান পদে রাখার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক তাৎপর্য বাড়িয়েছে।
দলীয় সূত্রে দাবি, তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আবহ তৈরি হওয়ার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরনো কমিটি ভেঙে শৃঙ্খলারক্ষা-সহ একাধিক নতুন কমিটি গঠন করেছিলেন। কিন্তু তাতেও ভাঙন ও অসন্তোষ পুরোপুরি থামেনি। এবার সেই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির তরফেই বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানো নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হল।
এতদিন মমতার ঘনিষ্ঠ বলয়েই ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খানের মতো নেতারা। তাঁদেরই একাংশ এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূলে সক্রিয় হওয়ায় কালীঘাটের অস্বস্তি আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শোকজ কেবল সাংগঠনিক পদক্ষেপ নয়, বরং দলের ভিতরে ক্ষমতার লড়াইয়ে কালীঘাটের পাল্টা বার্তা। এখন নজর, শোকজের জবাবে এই নেতারা কী অবস্থান নেন এবং শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে কারা থাকেন।





