নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো স্কুলশিক্ষাতেও উন্নয়নের ছাপ পড়ল প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে। সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত স্কুলশিক্ষা, পুষ্টি, ছাত্রীদের স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। মিড ডে মিলে বরাদ্দ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে প্রতিটি স্কুলে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানো, গ্রামীণ স্কুলে পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা, নতুন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের মতো একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে বাজেটে।
অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এতদিন মিড ডে মিলের জন্য পড়ুয়া-পিছু দৈনিক সাড়ে ৬ টাকা বরাদ্দ ছিল। তা বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হচ্ছে। সরকারের দাবি, এর ফলে আরও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের পারিশ্রমিকও মাসে ১ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন তাঁরা ১ হাজার টাকা পেতেন, এখন সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াবে ২ হাজার টাকায়। বাজেটে এই ঘোষণাকে স্কুলশিক্ষার পরিকাঠামোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আর্থিক স্বীকৃতির পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
শুধু তা-ই নয়, বাজেটে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, বর্ধমান, মালদহ ও ঝাড়গ্রামে মোট ৬টি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। ঝাড়গ্রামে আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার জন্য প্রথম দফায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি কাঁথি, কালিয়াচক ও ফলতায় মহিলাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
ছাত্রীদের স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষার দিকেও বিশেষ জোর দিয়েছে সরকার। প্রতিটি স্কুলে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে এবং গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে। উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী অবিবাহিত ছাত্রীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও বাজেটে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে ফের চালু করা হবে স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ। ফলে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে স্কুল ও উচ্চশিক্ষা দুই ক্ষেত্রেই পরিকাঠামো, পুষ্টি ও সুযোগ বৃদ্ধির বার্তা স্পষ্ট করল বিজেপি সরকার।





