কলকাতা, ১২ জুনঃ সরকার পরিবর্তনের পর নবান্নের প্রশাসনিক অন্দরমহলেও দেখা যাচ্ছে নতুন ছবি। এক সময়ের প্রভাবশালী মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দখলে থাকা প্রথম তলার ১০১ নম্বর ঘর এখন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামার অধীনে। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ওই ঘরে পূজার্চনার আয়োজন করেন।
বুধবার মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টনের পর শুক্রবার প্রথমবার নবান্নে নিজের বরাদ্দ ঘর পরিদর্শনে যান বিশাল লামা। সেখানে তিনি জানতে পারেন, একসময় এই ঘরেই বসতেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, যিনি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছেন। এরপরই প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন কাজ শুরু করার আগে ঘরটির ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রয়োজন। তাঁর উদ্যোগে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পূজা করা হয় এবং তারপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিশাল লামা বলেন, “নতুন কোনও শুভ কাজ শুরুর আগে পূজা করা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। বিধায়ক হওয়ার পরও নিজের অফিসে একইভাবে পূজা করেছিলাম।” তাঁর এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর পদক্ষেপও নজর কেড়েছে। নবান্নে নিজের বরাদ্দ ঘরে প্রবেশ করেই তিনি মন্ত্রীর চেয়ার বদলের অনুরোধ জানান। কারণ, ওই ঘরে আগে বসতেন প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, যার বিরুদ্ধে সম্প্রতি একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবং এফআইআরও দায়ের হয়েছে।
পূর্ণিমা চক্রবর্তী বলেন, “যিনি আগে এই ঘরে ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাই আমি ওই একই চেয়ারে বসতে চাইনি।” তাঁর আবেদনের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন চেয়ার সরবরাহ করা হয়।
নতুন সরকারের মন্ত্রীদের এই পদক্ষেপ প্রতীকী হলেও তা নবান্নে পরিবর্তনের বার্তাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি অতীতের বিতর্ক থেকে দূরত্ব বজায় রাখার বার্তাও উঠে এসেছে তাঁদের কর্মকাণ্ডে।





