কলকাতা, ৩০ মেঃ সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে সোনারপুরে যাওয়ার পথে একাধিক জায়গায় তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয়। পাশাপাশি ডিম, জুতো, কাদা ও ঢিল ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
জানা গিয়েছে, প্রথমে কামালগাজি এলাকায় কিছু মহিলা অভিষেককে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ জানান। এরপর সোনারপুরে প্রবেশ করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে থাকেন। এতে তাঁর পোশাক নোংরা হয়ে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিষেক গাড়ি থেকে নেমে একটি মোটরবাইকে চড়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। অভিযোগ, ডিম, জুতো ও কাদা ছোড়া হয়। এমনকি ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। মাথায় হেলমেট থাকায় তিনি বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পান বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় তাঁর চশমা ও হাতঘড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সব বাধা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, “এটাই ডবল ইঞ্জিন সরকারের নমুনা। আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার মাথায় হেলমেট ছিল বলেই বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। পুলিশ কোথাও দেখা যায়নি। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যেতে চাই না।”
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে একজন রাজনৈতিক নেতাকে এভাবে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে, তা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয়।”
অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনায় দলের কোনও ভূমিকা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনায় বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা সবসময় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশের পক্ষে।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।





