সোনারপুর, ৩০ মেঃ গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে বদলে যায়। নির্বাচনে ২০৮টি আসন জিতে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসন পেয়ে বড় ধাক্কার মুখে পড়ে। ফল প্রকাশের রাতেই বেলেঘাটার তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের মৃত্যুর ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার ২৬ দিন পর শনিবার নিহত বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সমস্যার কথাও শোনেন এবং আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর বিভিন্ন জায়গায় চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, নিহত বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের পরিবারকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এসব ঘটনা ঘটছে। তবে আমরা কর্মীদের পাশে আছি এবং তাঁদের পাশে থাকব।”
উল্লেখ্য, ফল প্রকাশের রাতে বিশ্বজিৎ পট্টনায়েককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন সকালে তাঁর বাড়ির সামনে দেহ উদ্ধার হয়। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার প্রথম ঘটনা বলে দাবি করেছিল। তবে পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি আত্মহত্যার ঘটনা এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার কোনও যোগ নেই।
এদিকে নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ সামনে এসেছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বারবার কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন।
তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ২৬ দিন সময় নিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের পাশাপাশি দলের একাংশও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর। যদিও এসব বিতর্কের মধ্যেই শনিবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন অভিষেক।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী দিনে এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





