কলকাতা, ২৮ মেঃ গৌতম দাস— নামটি একসময় রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিল। কালীঘাট থানার ওসি থাকাকালীন স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর একটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সেই ঘটনার জেরে তাঁকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার সেই গৌতম দাসকেই নবান্নে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
বিতর্কের সূত্রপাত একটি ভাইরাল ছবিকে ঘিরে। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছিল, অত্যাধুনিক একটি বন্দুক হাতে থানার চেয়ারে বসে রয়েছেন গৌতম দাস। তাঁর পরনে ছিল পুলিশের উর্দি। অভিযোগ ওঠে, তিনি নিজেই সেই ছবি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে পোস্ট করেছিলেন। যদিও ছবিটির সত্যতা নিয়ে সরকারি ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রথম ওই ছবি প্রকাশ্যে আনেন জয়প্রকাশ মজুমদার। তাঁর অভিযোগ ছিল, “একজন পুলিশ আধিকারিকের এ ধরনের ছবি শুধু অস্বস্তিকরই নয়, আইনের চোখেও অত্যন্ত আপত্তিকর। ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তিনি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে রয়েছেন।”
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে লালবাজার। গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করা হয় এবং তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার ওসি হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় চামেলি মুখোপাধ্যায়-কে। যদিও মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার বদল হয় ওসি পদে। পরে চামেলির পরিবর্তে দায়িত্ব পান বলাই বাগ।
বিধানসভা নির্বাচনের সময় কালীঘাট থানার ওসি পদ ঘিরে একাধিকবার রদবদল হয়েছিল। গত ২৯ মার্চ প্রথমবার বদলি করা হয় তৎকালীন ওসি-কে। সেই সময় উৎপল ঘোষ-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২৫ এপ্রিল কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হয় গৌতম দাসকে। তখন তিনি কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন।
তবে বিতর্কের আবহেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলে সেই সময় বিষয়টি নিয়ে তুমুল চাপানউতোর শুরু হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, আইনরক্ষকের ভূমিকায় থাকা কোনও আধিকারিকের এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
এবার দীর্ঘ বিতর্কের পর গৌতম দাসকে নবান্নে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত তাঁর নতুন দায়িত্ব বা পোস্টিং সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।





