কলকাতা, ২৩ মেঃ রাজ্যে মহিলাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জরায়ুমুখ বা সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের ঝুঁকি রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। আগামী ৩০ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে বিনামূল্যে সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধী টিকাকরণ কর্মসূচি। শনিবার স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বাংলার জন্য ৭ লক্ষ ডোজ টিকা পাঠানো হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এই কর্মসূচির সূচনা হবে। ১৪ থেকে ১৫ বছর বা তার ঊর্ধ্বের কিশোরীরা এই টিকাকরণ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে ওষুধ পৌঁছে দিতে রাজ্যে জনঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। বর্তমানে বাংলায় ১১৭টি জনঔষধি কেন্দ্র রয়েছে, যা বাড়িয়ে ৪৬৯টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দুরারোগ্য রোগের ওষুধে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলবে এই কেন্দ্রগুলিতে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল হেলথ মিশন-এর আওতায় বাংলার জন্য ২ হাজার ১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে শনিবারই ৫০০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়া গিয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, সার্ভাইক্যাল ক্যানসার বর্তমানে মহিলাদের মধ্যে অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৬ লক্ষ নতুন রোগী এই ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৩ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ভারতে মহিলাদের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্যানসার হিসেবে চিহ্নিত। প্রতি বছর দেশে লক্ষাধিক মহিলা নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হন।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি মূলত এই ক্যানসারের জন্য দায়ী। সময়মতো টিকা নিলে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। একাধিক যৌনসঙ্গী, ধূমপান, মদ্যপান ও অতিরিক্ত স্থূলতা এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসকদের আরও পরামর্শ, অতিরিক্ত সাদাস্রাব, অনিয়মিত রক্তপাত, মেনোপজের পর রক্তক্ষরণ বা কোমরে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সরকারের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে স্বাস্থ্য মহল।





