কলকাতা, ২৩ মেঃ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর স্বাস্থ্য পরিষেবাকে নতুনভাবে সাজাতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে নতুন সরকার। শনিবার স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘোষণা, আগামী জুলাই মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজ্যের যে প্রায় ৬ কোটি মানুষ প্রাক্তন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় চলে আসবেন। ফলে স্বাস্থ্যসাথির সুবিধাভোগীদের নতুন করে কোনও জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে না বলেই আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্য বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে ৬ কোটি মানুষ এখন স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরাই সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। পরে এই প্রকল্পের আওতায় আরও মানুষ যুক্ত হবেন। জুলাই থেকে নতুন আবেদনও গ্রহণ করা হবে।” এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে দিল্লিতে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির তৈরির প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকবেন। তাঁর দাবি, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, কাজ বা পড়াশোনার সূত্রে দেশের অন্য রাজ্যে থাকা বাংলার মানুষও যাতে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পান, সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আমলে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে দীর্ঘদিন মতবিরোধ চলেছিল। সেই সময় রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করে, যার মাধ্যমে পরিবারের মহিলাদের নামে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হতো এবং চিকিৎসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুবিধা মিলত।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তবে শনিবারের ঘোষণার মাধ্যমে সেই উদ্বেগ অনেকটাই দূর করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। নতুন সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।





