কোচবিহার, ২২ মেঃ কোচবিহারে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু-কে হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল কোচবিহার পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর উজ্জ্বল তর-কে। শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে আদালত চত্বরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত বিজেপি সমর্থকরা উজ্জ্বল তরকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
আদালতে তোলার সময় উজ্জ্বল তর দাবি করেন, তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি কিছুই জানি না। কেন আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটাও পরিষ্কার নয়। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে আমাকে টার্গেট করা হয়েছে।”
অন্যদিকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক তথা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করেছিলেন উজ্জ্বল তর। বিজেপির এক কর্মী বলেন, “ওনার এলাকায় কোনও উন্নয়ন হয়নি। উনি আমাদের বিধায়ককে অপমান করেছেন। তাই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি।”
ঘটনার সূত্রপাত ভোটের আগের দিন। জানা গিয়েছে, রথীন্দ্র বসু ২ নম্বর ওয়ার্ডে দলের এক অসুস্থ কর্মী ঝুমা বিশ্বাস-কে দেখতে গিয়েছিলেন। সেই সময় উজ্জ্বল তর অভিযোগ তোলেন, বিজেপি প্রার্থী এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের মধ্যে টাকা বিলি করছেন। এই অভিযোগ ঘিরে রথীন্দ্র বসুকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং তাঁকে কার্যত এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে রথীন্দ্র বসু নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। এরপর ঝুমা বিশ্বাস কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই উজ্জ্বল তরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তবে উজ্জ্বল তরের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ কোনও পূর্ব নোটিস ছাড়াই বাড়িতে ঢুকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই গ্রেপ্তারি কোচবিহারের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





