কলকাতা, ২০ মে: ফের রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে। উত্তর ২৪ পরগনার এই নেতা, যিনি রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি-র স্বামী হিসেবে পরিচিত, তাঁকে নিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক জল্পনা। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। যদিও বুধবার সকাল পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বক্তব্য দেয়নি রাজ্য সরকার বা কলকাতা পুলিশ।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী-র ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত দেবরাজ চক্রবর্তী। সেই কারণেই তাঁকে ঘিরে এই ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে তাঁকে আটক করা হয়। তবে তাঁকে কোন সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করছে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কেউ দাবি করছেন ইডি তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে, আবার কেউ বলছেন সিআইডি এই পদক্ষেপ করেছে। এমনও দাবি উঠেছে যে তাঁকে ভবানীভবনে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
যদিও বুধবার ভোর পর্যন্ত তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেনি কোনও তদন্তকারী সংস্থা। ফলে পুরো বিষয়টিকেই এখন রাজনৈতিক মহলে “রহস্যঘেরা অভিযান” বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তবে বিজেপি শিবিরের একাংশের দাবি, তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল বহুদিন ধরেই।
এই আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করে জল্পনা আরও উসকে দেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, “পাপ বিদায়”। এরপর বিজেপির প্রাক্তন নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ও দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করে প্রশ্নবোধক চিহ্নসহ পোস্ট করেন। তারপর থেকেই সমাজমাধ্যমে দেবরাজকে ঘিরে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
রাজ্য বিজেপির একাধিক নেতার দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছিল বিজেপি। তোলাবাজি, বিরোধীদের উপর হামলা এবং প্রভাব বিস্তারের মতো একাধিক অভিযোগ সামনে এনেছিল তারা। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে সম্প্রতি পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করেও রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। সেই মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। তদন্তে উঠে এসেছে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নামও। ফলে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করেছেন। আর জি কর ফাইল থেকে শুরু করে তোলাবাজি, বেআইনি কারবার এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। সেই প্রেক্ষাপটে দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে এই রহস্য আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে না আসায় পুরো ঘটনাকে ঘিরে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে। রাজনৈতিক মহল এখন নজর রাখছে তদন্তকারী সংস্থা এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





