ফলতা, ১৯ মেঃ ভোটের ঠিক আগেই ফলতা বিধানসভায় বড়সড় রাজনৈতিক নাটকীয়তা। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন। মঙ্গলবার, প্রচারের শেষ দিনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, ফলতার উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র ভূয়সী প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর গলায়। আর তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন। তার আগেই এই ঘোষণায় কার্যত চাপে পড়ে গিয়েছে তৃণমূল শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, ডায়মন্ড হারবার মডেলে এই ঘটনা বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই ফলতার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “জাহাঙ্গিরকে আমার উপর ছেড়ে দিন।”
সেই মন্তব্যের কয়েকদিনের মধ্যেই ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন জাহাঙ্গির। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশাল প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেই উন্নয়নের স্বার্থেই আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।” যদিও এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।
ফলতার রাজনীতিতে ‘ডাকাবুকো’ নেতা হিসেবেই পরিচিত জাহাঙ্গির খান। নির্বাচনের আগেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা সামনে আসে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এলাকায় বিশেষ নজরদারির জন্য পাঠানো হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের পরিচিত পুলিশ আধিকারিক অজয় পাল শর্মা-কে। ভোটের আগে তাঁর কড়া হুঁশিয়ারির পরেও জাহাঙ্গিরের “পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি” মন্তব্য ব্যাপক চর্চায় উঠে এসেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে এবার সেই ‘পুষ্পা’-ই কার্যত ঝুঁকে গেল বলে কটাক্ষ বিরোধীদের।
ঘটনার পরেই বিজেপি ও সিপিএম দুই শিবির থেকেই তীব্র কটাক্ষ শোনা যায়। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেলেন। যাঁরা রাষ্ট্রশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছিলেন, আজ তাঁরাই ময়দান ছাড়ছেন।” অন্যদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এত ঔদ্ধত্য দেখিয়ে শেষে ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল? সিপিএম কখনও মাটি ছেড়ে পালায়নি।”
তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় ইভিএমে জাহাঙ্গির খানের নাম থাকবেই। যদিও তাঁর এই ঘোষণার পর বিজেপি শিবিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডাকে বিপুল ভোটে জেতানোর ডাকও ইতিমধ্যেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।





