কলকাতা, ১৮ মে: মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে বড় পদক্ষেপ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী । রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল বিজেপি সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
মন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার সপ্তম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে এদিনের বৈঠকে কোনও চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি, তবে বিষয়টি সরকারের অ্যাজেন্ডায় রয়েছে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে ডিএ বকেয়া ও বেতন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ ছিল। সেই সময় বিজেপির তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করা হবে। সরকার গঠনের মাত্র ৯ দিনের মাথায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোল নতুন সরকার।
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এরপর ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দ্রুততা দেখাচ্ছে নতুন সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তম পে কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’।
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যদি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৯১ থেকে ৩.১৫-এর মধ্যে নির্ধারণ করা হয়, তাহলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতনে বড়সড় বৃদ্ধি হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বর্তমানে যার বেসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা, তা বেড়ে ৫২ হাজার থেকে ৫৬ হাজার টাকার মধ্যে পৌঁছতে পারে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই কমিশনের কাঠামো, সুপারিশ এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
সরকারি কর্মীদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের দাবির পর এই সিদ্ধান্ত স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির চাপেই সরকার দ্রুত এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক তরজা যাই থাকুক না কেন, সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হওয়ার খবরে রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই খুশির আবহ তৈরি হয়েছে।





