কলকাতা, ১৭ মেঃ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীর নিরাপত্তায় বড়সড় কাটছাঁট করল প্রশাসন। ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক কুণাল ঘোষ-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতার নাম
লালবাজার সূত্রে খবর, অন্তত ১০ জন তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ি থেকে হাউস গার্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু হয়। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে তৃণমূল আমলে অনেক নেতা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা পেতেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।
এবার সেই নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থাকা অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছিল, তিনি একজন সাংসদ হিসেবে যতটা নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, এখন থেকে ঠিক ততটাই নিরাপত্তা পাবেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নন, তাই অতিরিক্ত নিরাপত্তার কোনও প্রয়োজন নেই বলেই প্রশাসনের বক্তব্য।
এবার যাঁদের নিরাপত্তায় কাটছাঁট করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস ও সুব্রত বক্সী। প্রশাসন সূত্রে খবর, সাংসদ ও বিধায়ক হিসেবে তাঁরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা পাবেন ঠিকই, তবে বাড়ির সামনে অতিরিক্ত হাউস গার্ড আর থাকবে না।বিশেষ করে যাঁরা সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন বা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নেই, তাঁদের নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
সেই কারণেই প্রাক্তন মন্ত্রীদের অনেকের বাড়ি থেকে নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে, লালবাজার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি পীযূষ পাণ্ডের নিরাপত্তাতেও কাটছাঁট করা হয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি আগে ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন।এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, রাজ্যে বদলের হাওয়া লাগতেই প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার বন্ধের পথে হাঁটছে নতুন সরকার। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





