কোচবিহার, ৬ অক্টোবরঃ একটি সুতো একা হয়তো তেমন কিছু নয়। কিন্তু সেই সুতোই যখন আর একটির সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তৈরি হয় বুনন। আর সেই বুনন থেকেই জন্ম নেয় এক সম্পূর্ণ নকশা। মানুষের সম্পর্ক, বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সেই বিচ্ছিন্ন সুতোগুলিকেই এ বার এক জায়গায় আনার ভাবনা নিউটাউন ক্লাবের দুর্গাপুজোয়। এ বার তাদের পুজোর থিম ‘বুনন’।
দুর্গাপুজো মানেই শুধু প্রতিমা, মণ্ডপ আর আলোর উৎসব নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুজোর মণ্ডপ হয়ে উঠেছে সমাজ ও সংস্কৃতির নানা বার্তা তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে নিউটাউন ক্লাবের এ বারের আয়োজন। ‘বুনন’-এর মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা।
সুতো যেমন একের পর এক গিঁট, টান এবং বুননের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়, তেমনই সমাজও তৈরি হয় নানা মানুষ, সম্পর্ক, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে। সেই ভাবনাই এ বার মণ্ডপের নকশায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও থাকবে সুতো ও বুননের নানা প্রতীকী ব্যবহার, কোথাও আবার উঠে আসবে বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরম্পরার ছাপ।
শুধু মণ্ডপ নয়, আলোকসজ্জাতেও থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আলো, নকশা এবং উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে ‘বুনন’-এর গল্প। হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রজন্মের যোগাযোগ তৈরি করাই এই ভাবনার অন্যতম উদ্দেশ্য।
ইতিমধ্যেই পুজোকে ঘিরে নিউটাউন ক্লাব চত্বরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। মণ্ডপসজ্জা থেকে আলোকসজ্জা সব ক্ষেত্রেই ব্যস্ততা তুঙ্গে। শিল্পী ও কারিগরদের হাতের কাজ এগোচ্ছে দ্রুত গতিতে।
উদ্যোক্তাদের আশা, এ বারের ‘বুনন’ শুধু দর্শনার্থীদের চোখ টানবে না, ভাবাবে মনকেও। সময়ের স্রোতে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্ক, ভুলে যেতে বসা সংস্কৃতি এবং হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের সুতোকে ফের এক জায়গায় আনার সেই বার্তাই হয়তো হয়ে উঠবে নিউটাউন ক্লাবের পুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।





