কলকাতা, ৬ অক্টোবরঃ মাসের পর মাস ‘নিখোঁজ’ রাজগঞ্জের বিতর্কিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সল্টলেকের ব্যবসায়ী খুনের মামলায় অভিযুক্ত সেই প্রশান্তকেই এ বার আত্মসমর্পণের জন্য কড়া সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, আগামী ৮ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ৩টের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে তাঁকে। অর্থাৎ হাতে সময় মাত্র ৪৮ ঘণ্টা।
শুধু আত্মসমর্পণের নির্দেশই নয়, মামলার তদন্ত নিয়েও এ দিন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। তদন্ত কত দূর এগিয়েছে, সেই বিষয়ে সিআইডিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।
সল্টলেকের ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় নাম জড়ানোর পর থেকেই প্রশান্ত বর্মনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কোনও সন্ধান মিলছে না বলে অভিযোগ। এর আগে রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় রাতে গাড়ি চালানোর সময় এক পথচারীকে ধাক্কা মারার ঘটনাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর মদ্যপ অবস্থায় রাস্তায় চেঁচামেচি ও মারমুখী আচরণের অভিযোগও ওঠে। ওই ঘটনায় পুলিশ তাঁকে আটক করে পর দিন বারাসত আদালতে হাজির করেছিল। পরে জামিন পান প্রশান্ত। কিন্তু তার পর থেকেই ফের তাঁর হদিশ মেলেনি বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে মামলাটি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্টও আগে প্রশান্ত বর্মন সংক্রান্ত মামলায় একাধিক নির্দেশ দিয়েছিল। এ দিন হাই কোর্টে শুনানিতে সেই প্রসঙ্গ উঠে আসে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা নিয়ে প্রশ্ন তোলে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তের কোনও সন্ধান না মেলায় আদালতের অসন্তোষও স্পষ্ট হয়।
এমনকি অভিযুক্ত হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গা-ঢাকা দেওয়া এক সরকারি আধিকারিককে এখনও কী ভাবে নিয়মিত বেতন দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত।
এর পরেই আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত। প্রশান্ত বর্মনের সম্পত্তির তালিকা তৈরি করে তা বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও অভিযুক্ত দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পথ খোলা থাকে।
ফলে এখন নজর প্রশান্ত বর্মনের পরবর্তী পদক্ষেপে। আদালতের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ করেন কি না, নাকি মামলায় আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপের পথে এগোয় আদালত সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।




