খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বরঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল বর্ধমানে। ট্রেনে করে একসঙ্গে ৫৫টি দু’চাকার বাইক এসে পৌঁছেছে, যার সবকটিতেই রয়েছে বিহারের নম্বর প্লেট। অভিযোগ উঠেছে, এই বিপুল সংখ্যক বাইক বর্ধমানের এক বিজেপি নেতার নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতা বলেন, “৫৫টা বাইক এসেছে। বিহারের ভোটে এই বাইকগুলো কাজে লেগেছে, এবার বাংলার ভোটেও লাগানো হবে। আজ বাইক এসেছে, কাল গুন্ডা আসবে, পরশু বন্দুক আসবে।” তাঁর দাবি, বাইক আনার আড়ালে বহিরাগতদের এনে রাজ্যের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। দলের এক নেতা বলেন, “এই বাইকগুলো সম্পূর্ণ আইন মেনে আনা হয়েছে। এগুলো আমাদের কর্মীদের ব্যবহারের জন্য। রেজিস্ট্রেশনের জন্য কারও একজনের নামে আনতেই হয়, তাই দলের এক নেতার নামে আনা হয়েছে। এর সঙ্গে ভোটে কোনও বেআইনি কাজের যোগ নেই।” বিজেপির দাবি, শাসক দল ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনার মধ্যেই সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফর ঘিরেও রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ২০ তারিখ পশ্চিমবঙ্গে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে ঘন কুয়াশার কারণে তাঁর কপ্টার তাহেরপুরে নামতে ব্যর্থ হয়। ফলে তাঁকে দমদম বিমানবন্দরেই ফিরে আসতে হয়। দৃশ্যমানতার উন্নতি হলে কপ্টারে বা প্রয়োজনে সড়কপথে সভাস্থলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দমদম বিমানবন্দর থেকেই ভার্চুয়ালি সভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এই প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কৃষ্ণনগরেও নামতে পারতেন। কিন্তু ওঁর অভিধানে কৃষ্ণনগর নেই, কৃষ্ণগড় আছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কোনও কারণে কোথাও যেতে না পারলে বলা হয় উনি পালিয়ে গিয়েছেন, পদত্যাগ দাবি করা হয়। আজ প্রধানমন্ত্রী পৌঁছতে পারলেন না, তিনজন মানুষের মৃত্যু হল—তাহলে তিনিও কি পদত্যাগ করবেন?” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রের জায়গা বিমানবন্দরে বসে রাজনৈতিক সভা করা কতটা যুক্তিসঙ্গত।
এদিকে মতুয়া ইস্যুতেও বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছেন মমতাবালা ঠাকুর। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “মতুয়াদের নাগরিকত্বের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। দেওয়ার মতো কিছু নেই, বরং যা অধিকার ছিল সেটাও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মিথ্যে আর ভাঁওতা দিয়ে ভোট আদায় করেছে।”
সব মিলিয়ে বাইক বিতর্ক থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফর সবকিছু মিলিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ যে আরও বাড়ছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।





