নদিয়া, ২ জুলাই: বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ কাপড়ের কোমরবন্ধনী। কিন্তু তার ভিতরেই বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কেজির পর কেজি বিদেশি সোনা। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেই পাচারের ছক ভেস্তে দিল ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই)। বুধবার কৃষ্ণনগর থেকে চাকদহের পথে সাত জনকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৪ কেজি ওজনের ১৮০টি বিদেশি সোনার পাত, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৪ কোটি টাকা।
ডিআরআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই একটি সোনা পাচারচক্রের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে নেমে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেকের কোমরে বিশেষভাবে তৈরি কাপড়ের বেল্টের মধ্যে অত্যন্ত নিপুণভাবে সোনার পাতগুলি লুকিয়ে রাখা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখে তা বোঝার কোনও উপায় ছিল না।
উদ্ধার হওয়া সোনা ১৯৬২ সালের কাস্টমস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এই সোনা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং দেশের অভ্যন্তরে পাচারের উদ্দেশ্যেই তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে নির্দিষ্ট গন্তব্য কোথায় ছিল এবং এর পিছনে কোন চক্র কাজ করছে, তা এখনও তদন্তাধীন।
ধৃত সাত জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারচক্রের মূল হোতা এবং সীমান্ত জুড়ে সক্রিয় নেটওয়ার্কের সন্ধান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দাদের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় একটি বড় আন্তঃরাজ্য বা আন্তঃসীমান্ত পাচারচক্রের যোগ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে সোনা পাচারের একাধিক ঘটনা অতীতেও সামনে এসেছে। তবে একসঙ্গে ২৪ কেজি সোনা উদ্ধার এবং অভিনব কৌশলে তা পাচারের চেষ্টা গোয়েন্দাদের কাছেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত এগোলে এই চক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে আশা তদন্তকারী মহলের।





