নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: চাকরি থাকবে, না কি এক নির্দেশেই সব শেষ এই অনিশ্চয়তার আবহে সোমবার কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলেন ১৩৫ জন চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, ২০২২ সালে তৎকালীন পুর চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষের জারি করা নির্দেশে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি নতুন নির্দেশিকা জারি করে তাঁদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতেই পুরসভায় স্মারকলিপি জমা দেন কর্মীরা।
সোমবার সকালেই দলবদ্ধভাবে পুরসভায় পৌঁছন চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা। চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁরা ২০২২ সালের নির্দেশিকার একটি প্রতিলিপি তুলে দেন। একই সঙ্গে দাবি জানান, আগের নির্দেশই পুনর্বহাল করে তাঁদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পুরসভার বিভিন্ন দফতরে দায়িত্ব পালন করলেও হঠাৎ করে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
কর্মীদের দাবি, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করার সুযোগই তাঁদের প্রাপ্য। সেই নির্দেশ কার্যকর থাকলে বর্তমান সমস্যার সৃষ্টি হতো না। তাই নতুন নির্দেশিকা বাতিল করে পূর্বের সিদ্ধান্ত পুনরায় কার্যকর করার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে শুধু আবেদনেই থেমে থাকতে রাজি নন কর্মীরা। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। পাশাপাশি, পুর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক আশ্বাস না পেলে তাঁরা বিধানসভার স্পিকার এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করে বিষয়টি তুলে ধরবেন।
কোচবিহার পুরসভায় কর্মসংস্থান ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এখন পুর কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আন্দোলনরত কর্মীরা। চাকরি বহাল থাকবে, না কি নতুন নির্দেশই বহাল থাকবে সেই উত্তরই আপাতত তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।





